ভাঙা খেলনা থেকে মহাজাগতিক জিজ্ঞাসা: আমার ফিরে আসার গল্প
আমার ভেতরকার "আমি" সত্তাটা ছোটবেলা থেকেই ছিল ভীষণ কৌতূহলী। আমার কাছে কোনো বস্তুর বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার ভেতরের রহস্য। মনে পড়ে, আব্বু যখনই কোনো খেলনা কিনে দিতেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি সেটা ভেঙে ফেলতাম। উদ্দেশ্য মোটেও ধ্বংস করা ছিল না, বরং আমার অবুঝ মনে তীব্র এক ক্ষুধা ছিল—জানতে চাইতাম এটার ভেতরে কী আছে? এটা কীভাবে কাজ করে?
শৈশবের সেই ভেঙে
দেখার নেশা আজ পরিণত বয়সে এসেও আমাকে ছেড়ে যায়নি। আজও যেকোনো বিষয় দেখলে আমার মন
আমাকে প্রশ্ন করে কুড়ে কুড়ে খায়—এটা কীভাবে হলো? এটার উৎস কোথায়? এই
"কেন" আর "কীভাবে"র উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমি আসলে নিজের
অস্তিত্বকে খুঁজে পাই।
তবে জীবনের পথটা
সবসময় সোজা ছিল না। মাঝের কিছু সময় পড়াশোনা থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলাম। সেই
বিরতি বা অনিয়মিত পড়াশোনার কারণে যখন স্কুল জীবনে বিজ্ঞানের (Science) পথ বেছে
নিতে চাইলাম, আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আমার সামনে দেয়াল তুলে দিল।
বিজ্ঞানের বদলে আমাকে বেছে নিতে হলো ব্যবসা শিক্ষা (Commerce)। বিজ্ঞান পড়ার তীব্র
আকাঙ্ক্ষা মনে চেপেই আমাকে অনেকটা বাধ্য হয়েই বিবিএ-তে ভর্তি হতে হয়।
কিন্তু নিয়তির
এক অদ্ভুত খেলা দেখুন—বিবিএ পড়তে গিয়েই হঠাৎ "ফিলোসফি" বা দর্শন কোর্সের
মুখোমুখি হলাম। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমি যেন আমার সেই ছোটবেলার "আমি"কে
আবার খুঁজে পেলাম। কয়েক বছর চাপা পড়ে থাকা সেই প্রশ্নগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।
দর্শনের গভীর পাঠ আমাকে আবার সেই বিজ্ঞানের কাছেই ফিরিয়ে নিয়ে গেল। আজ আমি যখন
পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব আর দর্শনের গূঢ় অর্থ নিয়ে ভাবি, তখন বুঝি—সেই ছোটবেলায়
খেলনা ভেঙে ভেতরের মেকানিজম খোঁজা আর আজ মহাবিশ্বের রহস্য খোঁজা আসলে একই সুতোয়
গাঁথা।
বিজ্ঞান আর
দর্শনের এই মোহময় মিলনমেলাই এখন আমার জীবনের নতুন গন্তব্য। আমার এই জার্নি আসলে
হারানো কৌতূহলকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার গল্প।
Comments
Post a Comment