শ্রমের মূল্য কি শুধু চড়-থাপ্পড়েই নির্ধারিত?
আমি বহু বছর ধরে সকালের খাবার ঠিকমতো খেতে পারি না। হিসেব করে দেখেছি—এইভাবে চলতে চলতে প্রায় ছয় বছর কেটে গেছে। গতকাল ভার্সিটিতে যাওয়ার পথে প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে ঢুকে পড়েছিলাম এক অচেনা হোটেলে। আগে কখনো সেখানে খাওয়া হয়নি। রুটি অর্ডার দিয়েছি, এমন সময় হঠাৎ দেখি—হোটেলের মালিক এক ছোট ছেলেকে আচমকা চড় কষাল। কেন মারল, বুঝলাম না। হয়তো কোনো ভুল করেছে, হয়তো হেলে পড়ে কিছু ভেঙেছে। মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সেই ছেলেটার জায়গায় কল্পনা করতে শুরু করলাম। শ্রমের মূল্য কি শুধু চড়-থাপ্পড়েই নির্ধারিত হয়? ওয়ার্কশপ, হোটেল কিংবা চায়ের দোকানে কাজ করা অসংখ্য শিশু-কিশোর প্রতিদিনই নানাভাবে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়। সামান্য ভুলের জন্য চড়-ঘুষি যেন তাদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই নির্যাতন এতটাই ভয়াবহ হয় যে প্রাণ পর্যন্ত চলে যায়। অথচ সকাল থেকে রাত অবধি পরিশ্রম করে তারা পায় বড়জোর এক প্লেট ডাল-ভাত। এই শিশু-কিশোরদের তথাকথিত ‘উপরি পাওনা’ হলো সিনিয়রদের ধমক, মালিকের লাথি-ঝাঁটা আর চাকরি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। এরপরও তারা নীরবে একটি সিস্টেমকে সচল রাখে। তাদের অক্লান্ত শ্রম ছাড়া এত কম খরচে এত বেশি কাজ—এই ব্যবস্থ...