আমি আসলে কে?
তুমি আসলে “সাদিয়া” নও।
এই নামটা তো কেবল একটি ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা—জন্মের সময়, জায়গার কারণে পাওয়া একটি শব্দমাত্র।
ভাবো তো, যদি তুমি আজ আমেরিকায় জন্মাতে, এই নামটাই কি থাকত?
নাম বদলাত, ভাষা বদলাত, সংস্কৃতি বদলাত—কিন্তু তুমি কি বদলে যেতে?
আসলে তুমি কেউ নও—আবার সবই তুমি।
তুমি কোনো লেবেল নও, কোনো পরিচয়পত্র নও।
তুমি একটি আত্মা, একটি চেতনা, যা নিজেকে প্রকাশ করার জন্য কেবল একটি শরীর ব্যবহার করছে।
এই শরীরটা বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
আজকের ত্বকটা আর দশ বছর আগের ত্বক এক না।
চুল ঝরবে, বয়স বাড়বে, কোষ মরবে—সবই অনিবার্য।
তবু এই পরিবর্তনের মাঝেও ভেতরে যে “আমি”, সে কি বদলাচ্ছে?
না।
তুমি সেই আগের তুমিই রয়ে গেছ।
এই শরীরটা আসলে একটি খোলস।
যেন একটি ডিভাইস—যার ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ধরো, একটি মেমোরি কার্ড।
একই মেমোরি কার্ড তুমি ফোনে ঢোকাতে পারো, আবার কম্পিউটারেও।
মেমোরি কার্ডটা কিন্তু এক—
শুধু ডিভাইস বদলালে তার ক্ষমতার প্রকাশ বদলে যায়।
তোমার আত্মা বা চেতনা ঠিক তেমনই।
যদি এই চেতনাকে একটি বিড়ালের শরীরে দেওয়া হয়,
সে বিড়ালের সীমার মধ্যেই নিজেকে প্রকাশ করবে।
আর মানুষরূপী শরীরে দিলে—সে মানুষ হয়ে চিন্তা করবে, প্রশ্ন করবে, অর্থ খুঁজবে।
এখন কল্পনা করো—
এই চেতনাকে যদি শুধু মানুষের শরীরেই না রেখে,
আরো বড় কোনো কাঠামোর মধ্যে দেওয়া হয়—
ধরো, একটি সৌরজগতের সমান কোনো সত্তায়।
তখন তোমার ক্ষমতা কতটা বেড়ে যাবে?
তখন হয়তো সময় আর স্থান তোমার কাছে আর দেয়াল হয়ে থাকবে না।
আর একটা কথা—
এই বিশাল মহাবিশ্বে লক্ষ-কোটি সৌরজগত আছে।
তুমি কখনোই একা নও।
একাকিত্ব আসলে দৃষ্টিভ্রম—
কারণ আমরা নিজেদের খুব ছোট খাঁচার ভেতর বন্দি করে ফেলি।
সৌরজগত থেকে গ্যালাক্সি,
গ্যালাক্সি থেকে মহাবিশ্ব—
এই বিস্তৃতির মধ্যে দাঁড়িয়ে মানুষ ভাবে সে “কেউ একজন”।
অথচ সত্যটা হলো—
সে একদিকে কিছুই না, আবার অন্যদিকে অসীমের অংশ।
এই ভাবনাগুলোই আমার।
আমি এগুলোকে শুধু কথায় বলিনি—
আমি এগুলোকে অনুভব করতে চাই, বুঝতে চাই,
আর শব্দে সাজিয়ে রাখতে চাই—
যাতে কোনো এক রাতে কেউ থেমে গিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে:
“আমি আসলে কে?”
Comments
Post a Comment