কাউন্টার ন্যারেটিভ ছাড়া কোনো লড়াই জেতা যায় না

সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের সমাজে এখনো মূলধারার প্রভাবশালী মিডিয়ার সমমানের কোনো শক্তিশালী বিকল্প বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেনি—এটা স্বীকার করতেই হবে।

কোনো ন্যারেটিভ ভাঙতে হলে তার বিপরীতে একটি কার্যকর কাউন্টার ন্যারেটিভ তৈরি করতে হয়। ভাঙচুর বা ভ্যান্ডালিজম করলে উল্টো ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, মূল লক্ষ্য থেকে দৃষ্টি সরে যায়। আমাদের দায়িত্ব ছিল নতুন এক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠা তৈরি করা—একটি বিকল্প ভাবনার পরিকাঠামো দাঁড় করানো।


যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন, তারা কখনোই ভাঙচুরকে সমাধান হিসেবে দেখেননি। বরং প্রচলিত প্রভাবশালী মিডিয়ার বিপরীতে যুক্তি, তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর জবাব দেওয়ার চেষ্টাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

আধিপত্যবাদী প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে আমাদেরও সমান শক্তিশালী, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রভাবশালী মিডিয়া গড়ে তুলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

এর জন্য সবার আগে আমাদের লেখাপড়া বাড়াতে হবে—গভীরভাবে, নিয়মিতভাবে। শুধু স্লোগান দিয়ে নয়; জ্ঞান, বিজ্ঞান, যুক্তি ও তর্কে আমাদের সেরা হতে হবে। কারণ আদর্শের লড়াইয়ে জয় আসে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব থেকে।

নইলে ইতিহাস বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে—আর ক্ষমতার সেই দমনমূলক চক্র ঘুরে ঘুরে ফিরে আসবেই।

 

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বাসের সাতকাহন: ভয় থেকে মহাজাগতিক একত্বের সন্ধানে

বিশ্বাসের সাতকাহন পেরিয়ে: সত্যের সন্ধানে ৭টি অকাট্য অধ্যায়

ধর্মগ্রন্থ ও আধুনিক বিজ্ঞান: একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক আলোচনা

শূন্য থেকে অসীম: সত্যের সন্ধানে এক আত্মিক যাত্রা

শেখ হাসিনার পতন এবং প্রভাবশালী শ্রেণীর ভূমিকা