কেন আমরা এখনো একটি ‘সবার দেশ’ গড়তে পারলাম না?

আপনি কখনোই সত্যিকারের নেতা হতে পারবেন না, যতক্ষণ না একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষকে পাশে রেখে রাজনীতি করবেন। ধরুন, আপনি নেতা—কিন্তু কেবল ওই বিশেষ শ্রেণির জন্যই!

আমাদের কি ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব শেখানো উচিত ছিল না? তার বদলে আমাদের শেখানো হয়েছে: “ডেমোক্রেসি ভালো না”, “সেক্যুলারিজম ভালো না”—কিন্তু কেন ভালো না, তার ব্যাখ্যা কখনো দেওয়া হয়নি।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো—
যে ‘ইহুদি-খ্রিস্টানদের বানানো মতবাদ’ মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য না,
তারাই অসুস্থ হলে বলেন না যে “ইহুদি-খ্রিস্টানদের তৈরি ওষুধ খাব না”
হিপোক্রেসি বলে একটা জিনিস আছে ভাই!

যা হোক, তাদের উচিত ছিল ইসলামের সঙ্গে এবং এই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে একটি ব্যবস্থা তৈরি করা। কিন্তু তারা করতে পারেনি, নাকি সে যোগ্যতাই নেই—সেটা আমার জানা নেই।
হাস্যকরভাবে, তারা বলবে—“কুরআনে ইকোনমি আছে”—কিন্তু সেই ইকোনমি কিভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হয় তার রোডম্যাপ নেই। আর যদি টেনে-হিঁচড়ে মানানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আফগানিস্তান তো সামনে আছেই… হাহা!

আগে ভাবতাম,
“দেশে এত মুসলিম, তবু কেন তারা ক্ষমতায় আসতে পারে না?”
এখন প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর চোখের সামনে পেয়ে যাচ্ছি।

একটি রাষ্ট্র কখনোই একক কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক শ্রেণির মতো আচরণ করে না।
আপনি কাউকে খারিজি বলুন, কাদিয়ানি বলুন, কিছুই হোক—
১০ টাকার চিপস কিনলে রাষ্ট্রকে যে পরিমাণ ভ্যাট-ট্যাক্স আপনি দেন,
সেই একই পরিমাণ ট্যাক্স সেই মানুষটিও দেয়।
রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান।

চাইলে ধর্মীয় উগ্রতা দিয়ে কোনোভাবে ক্ষমতায় উঠা সম্ভব হয়তো,

কিন্তু রাষ্ট্র চালানো যাবে না কখনোই।

এই দেশ আমার, আপনার, আমাদের সবার।
কার ব্যক্তিগত পছন্দ কী হবে—এটা তার নিজের বিষয়।

 

Comments

Popular posts from this blog

বিশ্বাসের সাতকাহন: ভয় থেকে মহাজাগতিক একত্বের সন্ধানে

বিশ্বাসের সাতকাহন পেরিয়ে: সত্যের সন্ধানে ৭টি অকাট্য অধ্যায়

ধর্মগ্রন্থ ও আধুনিক বিজ্ঞান: একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক আলোচনা

শূন্য থেকে অসীম: সত্যের সন্ধানে এক আত্মিক যাত্রা

শেখ হাসিনার পতন এবং প্রভাবশালী শ্রেণীর ভূমিকা